স্টাফ রিপোর্টারঃ
জনগনের তোপের মুখে ভোলার কিচেন মার্কেট পূর্বের স্থানেই থাকবে বলে জানিয়েছেন ভোলা পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানূর রহমান। বুধবার (১৯শে ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৪টার দিকে পৌরসভার কনফারেন্স রুমে রাজনীতিক, সুশিল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিকব ও ভোলা পৌরসভার ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এদিকে, মতবিনিময় সভা শুরুর আগে দুপুর থেকে পৌর ভবনের সামনে এসে ব্যবসায়ীরা ঝড়ো হতে থাকে সভা চলকালে কিচেন মার্কেটের সকল ব্যবসায়ীরা পৌর ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে। এসময় ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিলে বলেন, ভোলার কাঁচা, মাছ, গোস্ত, মুরগী বাজার বর্তমান কিচেন মার্কেট, খালপাড়, চকবাজার হতে ভোলা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বৈদ্য বাড়ী সংলগ্ন গরুর হাটের কাছে স্থানান্তর করার যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ভোলার ১৫০ বছরের ঐতিহ্যকে কোনভাবেই নষ্ট হতে দেয়া হবে না। বাজারটি ভোলা শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে ৩-৪ কিলোমিটার দূরে নিতে দেয়া হবে না। ভোলা শহরের প্রতিটি নাগরিকে ভোগান্তিতে ফেলে বাজার স্থানান্তর এর সিদ্ধান্ত জনভোগান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমানে স্থানে বাজার না রাখা হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন তারা।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, ভোলার কাঁচা, মাছ, গোস্ত, মুরগী বাজার বর্তমান কিচেন মার্কেট, খালপাড়, চকবাজার হতে ভোলা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বৈদ্য বাড়ী সংলগ্ন গরুর হাটের কাছে স্থানান্তর একটি আত্মঘাতী প্রস্তাব। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কিচেন মার্কেট যথা স্থানে থাকাসহ ভোলার ব্যবসায়ীদের বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন বক্তারা। যার মধ্যে প্রধান দাবিগুলো ছিলো, কিচেন মার্কেট যথা স্থানে থাকা এবং ওই মার্কেটের ২য় ও ৩য় তলা দখলমুক্ত করে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে হস্তান্তর করা। ভোলার পুরানো মাছ বাজার দখল করে দোকান ঘর উত্তোলন করে বিশাল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের না দেওয়া। ভোলার খালপাড় অবৈধ স্থাপনা তৈরী করে সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অথচ ভোলার মার্কেটগুলোতে আগুন লাগলে পানি উত্তোলন সম্ভব হচ্ছে না, সেই সুযোগ সৃষ্টি করা। ভোলা পৌরসভার মধ্যে অটোরিকশা সীমিত করে তাদের লাইসেন্স দিয়ে চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার দাবি। ভোলার যুগীরঘোল থেকে ভোলার প্রধান সড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে যানজট নিরসন করা। ভোলার খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালটি খনন করে পানির গতিপথ বৃদ্ধি করাসহ পাবলিক টয়লেট স্থাপনের দাবি জানানো হয়। পরে পৌর কর্তৃপক্ষ বক্তারাদের মতামতগুলো গুরুত্ব দিয়ে শুনে বক্তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে কিচেন মার্কেট স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং অন্যান্য দাবিগুলোর পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।
আলোচনা সভায় ভোলা পৌরসভার প্রশাসক মিজানূর রহমান বলেন, পৌরসভার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব হচ্ছে পৌরবাসীকে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা। পৌর কর্তৃপক্ষ কিচেন মার্কেট স্থানান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ভোলা শহরের যানজট নিরসনের জন্য কিচেন মার্কেট স্থানান্তরের ব্যাপারে পৌরবাসীর কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে। মতামত চাওয়ার অর্থই সিদ্ধান্ত গৃহীত নয়। আপনাদের সকল দাবিগুলো পৌর কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং কিচেন মার্কেট যথা স্থানেই থাকবে। এছাড়াও পৌরসভার উন্নয়নের কাজে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এই কর্মকর্তা।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও জেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খান, জেলা বিজেপি’র সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক আলহাজ্ব মুহাম্মদ শওকাত হোসেন, পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন আরজু, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, পৌরসভার সাবেক কমিশনার ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সোপান, বস্ত্র মালিক সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুল ইসলাম মিলন, এ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, একুশে টিভির ভোলা প্রতিনিধি মেসবাহ উদ্দিন শিপু, ডায়াগনস্টিক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, সাংবাদিক এ,সি,ডি অর্জুন প্রমূখ।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন, ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান, অধ্যক্ষ দুলাল চন্দ্র ঘোষ, মুদি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক কামরুল হাসান, কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মতিন মিয়া, মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোতাহার হোসেন, মুরগী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহে আলম, চাবি মেকার সমিতির সভাপতি ফারুক হোসেন, পান-সুপারী ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক ইলিয়াছসহ আরো অনেকে।