স্টাফ রিপোর্টারঃ
ভোলায় ফুটপাত দখল মুক্ত, সড়কে জানজট মুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে ভোলা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। বুধবার বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করে।
জানা গেছে, ভোলা পৌরসভার আওতাধীন সড়কের ফুটপাতগুলো দখল করে দীর্ঘদিন যাবত অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল এবং সড়কে যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং করে জানজট সৃষ্টি ও শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল একটি মহল। এ সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণ বে-আইনী। তাই ভোলা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ফুটপাত ও সড়ক জানজট মুক্ত এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারনে লক্ষে অভিযানে নামে। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেলে ভোলা শহরের কালিনাথ রায়ের বাজারের হাটখোলা মসজিদের সামনে অবস্থিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এরপর সদর রোড, বাংলাস্কুল মোড়, উকিল পাড়া হয়ে যুগীরঘোল এবং রাতে নতুন বাজারের সড়কের ফুটপাত এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। এ সময় ফুটপাতে থাকা সকল বস্তু এবং স্থাপনা অপসারনের লক্ষে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেন। এ সময় শহরের উকিল পাড়া এলাকায় এক ব্যক্তি ফুটপাত দখল করে বালু রাখার দায়ে তার কাছ থেকে মুছলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে হোন্ডা রাখার কারণে বেশ কয়েটি হোন্ডা পৌরসভার গাড়ীতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ফুটপাত দখল এবং অবৈধ স্থাপনার মাধ্যমে যারা এগুলো দখল করেছে সেই সব ব্যবসায়ীকে প্রাথমিক পর্যায়ে গতকাল সতর্ক করা হয় এবং সকল মালামাল আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। যদি কোন ব্যবসায়ী এ নির্দেশ অমান্য করে তা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারীও দেয়া হয়।
এদিকে ভোলা পৌরসভার আওতাধীন এ অভিযান কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ। এ সময় তারা বলেছেন প্রশাসনের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকা জরুরি। কারণে অভিযান শেষে যে যার মত ফুটপাত দখল করে রাখে। যার কারণে সাধারণ মানুষরা ফুটপাত ব্যবহার করতে পারে না। এছাড়া শহরের যেখানে-সেখানে গাড়ী পার্কিং এর কারণে জানজট সৃষ্টি হয়। যাতে করে জানজট সৃষ্টি না হয় তার জন্য সকলকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি গাড়ীগুলো নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিং এর পরামর্শ দেয়া হয়। অন্যদিকে অবৈধ স্থাপনার মাধ্যমে যারা ব্যবসারা আড়ালে নিজেদের স্বার্থ হাসিল কারা চেষ্টা করেছেন তাদেরকেও সতর্ক করা হয়। এই অভিযানের পরে যেন আর কোন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ না হয় সে ব্যাপারেও কড়া হুশিয়ারী দেয়া হয়। যদি নির্মাণ হয় তা হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এসবের সাথে যারা জড়িত হবে তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোলা পৌর সভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান, নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট জিয়াউল হক, পৌর সভার নির্বাহী আবুল কালামসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভোলা পৌর সভার লোকজন।