স্টাফ রিপোর্টারঃ
সন্তান নিয়ে ভোলায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন এক গৃহবধূ এমন একটি অসহায় পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি ভোলার সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরনোয়াবাদ এলাকায় বাসিন্দা। সেখানে তার যৎ সামান্য জমি থাকলেও নেই কোন বসত ঘর। তাই তিনি বাধ্য হয়ে আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন পরিচিতজনদের বাড়ীতে যাযাবরের মত মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। খোজ নিয়ে জানা গেছে ওই গৃহবধূর নাম রাবেয়া বেগম। তিনি এক মেয়ে ও এক ছেলের জননী।
রাবেয়া বেগমের কাছে তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার এই মুহূর্তে পরিচয় দেয়ার মতো কিছু নেই। ৮ ভাই-বোনের সব থেকে ছোট ছিলেন তিনি। ২০০৫ সালে ১২ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছে তার। বিয়ের কিছুদিনের মাথায় তার বাবা মারা যায় এতে করে তার পরিবার অনেকটাই ভেঙ্গে পরেন। বিয়ের ৩ বছরের মাথায় তার স্বামীকে হারিয়ে আরও নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। এক সময় নদী ভাঙ্গনে হারান স্বামীর শেষ ভিটাটাও। এসময় তার কোলে ফারজানা ও এক ছেলে। জীবনের কঠিনতম সময়ে সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে জড়াননি নতুন সংসারে। ভাঙ্গা একটি ঘর ভাড়া নিয়ে মেয়েকে এতিমখানায় দিয়ে চাকরি নেন ভোলার একটি প্রতিবন্ধী স্কুলে। পাড় করেন দীর্ঘ কয়েকটি বছর। এরই মধ্যে ২০১৮ সালে মেয়ে ফারজানার কয়েকটি কঠিন রোগ ধরা পরে। অপারেশনসহ মেয়ের চিকিৎসা খরচ বহন করতে রাবেয়া বেগমকে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে হয়। সন্তানদের খরচ চালিয়ে অল্প অল্প করে ঋণের বোঝা হালকা করতে পারলেও ২০২৪ শেষে এসে বন্ধ হয়ে যায় তার চাকরিটি। ঠিক তারপর থেকেই নিঃস্ব অসহায় হয়ে পরেন তিনি।
থাকার জন্য একেক দিন আত্মীয়-স্বজনের এ বাড়ি ও বাড়ি করে যাযাবরের মতো জীবন যাপন করছেন। নেই খাবারের কোন নিশ্চয়তা। ঝুকিতে পরেছে মেয়ে ফারজানার জীবন। তিনি জানিয়েছেন মেয়ের চিকিৎসায় প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ২শ’ টাকার ঔষধ লাগছে। ছেলের মাদ্রাসার খরচ কোনটাই তিনি বহন করতে পারছেন না। এই মুহূর্তে তার সন্তান আর অসহায় মুহূর্ত তার সঙ্গী। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে অনেকটা নিরুপায় হয়েই সাহায্যর জন্য প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী, দানশীল, হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামান করেছেন। তাদের কাছে তিনি অনুরোধ করছেন যদি তাকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়ার হয় তাহলে তিনি তার পরিবারটি নিয়ে নতুন করে বাঁচার শক্তি পাবেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, পূর্বে তার চাকরি থাকাকালীন সময়ে বাপ্তা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরনোয়বাদ এলাকায় নিজ নামে কেনা ২ শতাংশ জমি রয়েছে। সেখানে যদি একটা বাসস্থান তোলার ব্যবস্থা করা যায় তাহলে মাথা গোজার ঠাই হবে। এই অসহায় মুহূর্ত বিবেচনায় যার যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব সকলকে তার পাশে দাঁড়ানোর আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
মেয়ে ফারজানা বিবি বলেন, ছোট বেলায় বাবাকে হারিয়েছি। মা অনেক কষ্ট করে আমাদের লালন পালন করছেন, কিন্তু মায়ের চাকরি হারানো ও আমার অসুস্থতায় আমার পরিবার আজ আমরা মানবেতর জীবন-যাপন করছি। তাদের পরিবারে এমন দুরাবস্থার কথা বলতে গিয়ে অশুসিক্ত নয়নে বলেন, ইচ্ছা ছিলো বড় হয়ে পড়াশোনা করে মায়ের পাশে দাঁড়াবো। অথচ এখন আমার চিকিৎসা খরচ যোগাতে আমার পরিবার আজ রাস্তায়। তিনি সকলের কাছে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে মায়ের পাশে দাঁড়ানো সুযোগ করে দেয়ার জন্য সমাজের বিত্তবান সকলের সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করছেন।