চরফ্যাশন প্রতিনিধিঃ
চরফ্যাশনের শশীভুষণ থানার রসুলপুর ও দক্ষিণ আইচা থানার চর মানিকা ইউনিয়নের সিমান্তবর্তী এলাকার ভাসানচর খালের ওপর ব্রীজ না থাকায় দূর্ভোগে পড়েছে দুই গ্রামের প্রায় ৬ হাজার মানুষ। জন প্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও কয়েক যুগ ধরে গ্রামবাসীরা জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধর্ণা ধরে কোন সুরাহ না পেয়ে একাধিকবার ব্রীজ নির্মাণের দাবীতে মানববন্ধন করলেও নির্মাণ হয়নি দুই গ্রামের মানুষের পারাপারে জন্য একটি ব্রীজ। স্থানীয়দের সহায়তা একটি কাঠের সাকোঁ নির্মাণ করা হলেও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীসহ দুই গ্রামের মানুষ। গ্রামের পাশে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও পথের মাঝে ভাসান চর খালের ওপর সাঁকো পাড়াপাড়ের ঝুঁকিতে শিশুদের স্কুল বিমুখ রাখছে। ফলে যুগযুগ ধরে এই দু’টি গ্রামের শিশুরা লেখাপড়ার সুযোগ ছাড়াই বেড়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই গ্রামের মানুষের জন্য দুই ইউনিয়নের সিমান্তবর্তী এলাকায় ইয়াকুব আলী জামে মসজিদ ও তাজউদ্দীন মাওলানা জামে মসজিদ নির্মিত হয় বহুবছর আগে। এবং শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দাতা সংস্থার অর্থয়ানের নির্মিত একটি কোয়াইট স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু দুই ইউনিয়নের সিমান্তবর্তী এলাকার ভাসানচর খালটি অবস্থিত হওয়ায় দুই ইউনিয়নের জন প্রতিনিধিদের টানাটানিতে কয়েক যুগেও নির্মাণ হয়নি একটি ব্রীজ। এতে বিপাকে পরেছে শিশু শিক্ষার্থীসহ দুই গ্রামের প্রায় ৬ হাজার মানুষ। স্থানীয়দের সহায়তায় একটি নড়ভড় কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীসহ গ্রামের ৬ হাজার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্ধা হারুন হাওলাদার জানান, রসুলপুর ও চর মানিকা ইউনিয়নের সিমান্তে দুই গ্রামের ৬ হাজার মানুষের বসবাস। গ্রামবাসী দীর্ঘ তিন যুগ যাবত ওই দুই গ্রামের মানুষের সেতুবন্ধন ও পারাপারের জন্য ভাসানচর খালের ওপরে একটি ব্রীজ দাবী করে জন প্রতিনিধিদের কাছে ধর্ণা ধরলেও ভাগ্যে মিলেনি একটি ব্রীজ। স্থানীয় মসজিদের মুসল্লি ও গ্রামবাসীরা তাদের সহযোগিতায় একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে দুই গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসীদের। খালের ওপারে ভাসানচর গ্রামের দুই প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও খালের ওপর ব্রীজ না থাকায় স্কুল বিমুখ হয়ে পরেছে শিশু শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি নড়ভড় কাঠের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে দুই গ্রামের মানুষ। দ্রুত সময়ের মধ্যে দুই ইউনিয়নের সিমান্তবর্তী ভাসানচর খালের ওপর একটি ব্রীজ নিমাণের দাবী জানান।
দাতা সংস্থার অর্থয়ানের নির্মিত কোয়াইট স্কুলের চতুর্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী মো. জহির জানান, ওই স্কুলে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের স্কুলে যাতায়াতের এজন্য বিকল্প কোন সেতু না থাকায় তারা ভাঙাচোরা কাঠের সাঁকো দিয়ে পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। সাঁকোটি একদম নড়বড় হওয়ার স্কুলে যাওয়ার সময় খালে পরতে হয়েছে সে সহ তার অপর সহপাটিরা। সাঁকো পাড় হতে গিয়ে প্রতিদিন কেউ না কেউ বই খাতাসহ খালে পরছে। সাঁতার জানায় কেউ কেউ উঠে আসতে পারলেও সাঁতার না জানা শিশুদের পথচারীরা উদ্ধার করছে। সরকারের কাছে একটি ব্রীজের দাবী জানান তারা।
কোয়াইট স্কুলের শিক্ষক সামসুদ্দিন খোকন জানান, একটি মাত্র সাঁকোর কারণে দুই গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে দু’টি গ্রামের কয়েকশ শিশু শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত থেকেই বেড়ে উঠবে।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. মোশারেফ হোসেন জানান, ভাসানচর খালের উপর ব্রীজ নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। যাতে খুব শিগ্রিই সাঁকো এলাকায় ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসনা শারমিন মিথি জানান, বরাদ্দ পেলে ওই সাঁকো এলাকায় একটি ব্রীজ নির্মাণ করে দেয়া হবে।