চরফ্যাশন প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ প্রায় ৫মাস পর হাইকোর্টের রায়ে ভোলা জেলার মধ্যে একমাত্র উপজেলা চরফ্যাশনের ২নং আছলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আবুল কাসেম মিলিটারী প্রশাসনিক ক্ষমতা ফিরে পাওয়ায় তার নির্বাচনী এলাকায় আনন্দের বন্যা, সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুঠে উঠছে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) এমন সংবাদে পুরো এলাকা আলোচনার ঝড় উঠেছে এবং সাধারণ মানুষ তার প্রশাসনিক ক্ষমতা ফিরে পাওয়া প্রাণভরে দোয়া করছেন।
গত ৫ আগস্টে আ’লীগ সরকার পতনের পরপরই ইউপি চেয়ারম্যানেরা আত্মগোপনে চলে যায়। জেলা প্রশাসকের জারি করা প্রজ্ঞাপন তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন উচ্চ আদালত। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেকসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অফিসারবৃন্দদেরকে দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের কাযক্রম পরিচালনা চলছে।
এদিকে আনারস প্রতিকে নির্বাচিত ২নং আছলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম মিলিটারী করা এক রীট পিটিশনের জনগনের ভোটে বিজয় হয়ে নির্বাচিত হয়ে কেন পদ থেকে সরে যেতে হবে জানতে চেয়ে উচ্চ আদালতে এক রীট পিটিশন দাখিল করেন। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বিচারক’ ফাহমিদা কাদের ও মুবিনা আচাফ এর বেঞ্চে গত বুধবার (১৮ডিসেম্বর) তাকে পূণরায় ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে বহাল রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। সেই সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব ইউপি শাখা ভোলা জেলা প্রশাসক চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে রুল জারি করেন।
এদিকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব রেখে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা সঠিকভাবে জনগনকে সেবা দিতে বেহত হচ্ছে বলে স্থানীয় জনগন জানান। বর্তমানে উপজেলা হেলথ প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) আসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যক্রম চালানোর দায়িত্ব রয়েছেন।
আসলামপুর গ্রামের অসহায় আঃ খালেক বলেন, আবুল কাশেম মিলেটারীর মত ভাল মানুষ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমরা বিএনপি করেও তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি। তাকে না পেয়ে আমরা হতাশা। চাল ডাল কিছুই পাইনা। তার আশার সংবাদ শুনে নামায পড়ে দোয়া করছি। তার মত হাজার হাজার সাধারণ পরিবার এই চেয়ারম্যান কাসেম মিলিটারীর জন্য দোয়া নামায পড়ে দোয়া করছেন।
পুরুষ ও মহিলারা এক বাক্যে বলেন, কাসেম মিলিটারী একজন সাংস্কৃতিক নাট্যকার ব্যক্তি। বিপদে-আপদে দিনে-রাতে দল-বিদল নয় সবার বিপদে ছুটে যেতেন। নিজের পরিবারের মত পাশে থেকে জনগনের সর্বাত্মক সহযোগিতার করতেন। যার ফলে মানুষ আওয়ামীগ সরকার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দলমত নির্বিশেষে তাকে নৌকার বিপরীতে আনারস মার্কা ভোট দিয়ে বিজয় করে করেছেন।
বিজয় হয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি কে খেয়ে আছেন না খেয়ে আছেন খোঁজ-খরব নিয়ে চাল ডালের ব্যবস্থা করায় প্রশংসার সাথে একজন যোগ্য দক্ষ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মানুষের মুখে একটাই শ্লোগান ছিল কাসেম মিলিটারীর কাছ থেকে আসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ আর কেউ নিতে পারবে না। কাসেম মিলিটারীই বার বার চেয়ারম্যান হবে।
আবুগঞ্জ বাজার ছোট্ট পান দোকানদার খালেক সরদার, বাজার ঝাড়–দার এনায়েত, লিটন সিকদার বলেন, চেয়ারম্যান কাসেম মিলিটারী বাজারে আসলে আমাদের খোজ-খবর নিতেন। আমরা তাকে দীর্ঘ ৩/৪ মাস হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আল্লাহ যেন তাকে পুরোপুরি সুস্থ্য করে রাখেন এবং দ্রুত আমাদের মাঝে ফিরে দেন প্রাণ ভরে দোয়া করি।
আসলামপুর ৭নং ওয়ার্ড ভোটার মাওলানা ইব্রাহিম বলেন-কাসেম মিলিটারী একজন সুন্দর মনের অধিকারী লোক। তিনি চেয়ারম্যান হয়ে সব সময় মানুষের মন রক্ষা করে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। আল্লাহপাক তাকে ঠিকই জনগনের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করে দিবেন।
চেয়ারম্যান হয়ে অনেকের চরিত্র পাল্টালেও চেয়ারম্যান কাসেম মিলিটারী ছিল তার বিপরীত। চেয়ারম্যান হয়ে তার নির্বাচনী এলাকার সকল ঈমামদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দিয়ে পুরুস্কার প্রদান করেন।
এই চেয়ারম্যান গত বছর গ্রাম বাংলা ও বেড়ির পাড়ের অসহায় মানুষকে নিয়ে তার লেখা নাটক বেড়ির পাড়ের ময়না ও তার মতি পাগলা চরিত্রের অভিনয়ে পুরো উপজেলা মানুষের মনে তাগ লাগিয়ে মানুষের হ্রদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। সদা হাসজ্জল মানুষটি ফিরে আসবে শুনে প্রাণভরে সবাই দোয়া করছেন।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাসনা শারমিন মিথি বলেন, আমরা এখনো চিঠি হাতে পাইনি, পেলে তার পরিষদের কাজের স্বার্থে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।