স্টাফ রিপোর্টার:
ভোলার তজুমদ্দিনে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে মূলধারার নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ভাষণ প্রচার করেন। পরে সংস্কারপন্থী গ্রুপ (মেজর হাফিজ অংশ) বাঁধা দিলে দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় তথ্য সংগ্রহে গেলে সংস্কারপন্থীদের হামলা সাংবাদিকসহ মূলধারার ১০ নেতাকর্র্মী আহত হয়। আহতদের দুইজনকে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ নগদ টাকা মোবাইল ফোন পত্রিকার আইডিকার্ডসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
সুত্রে জানা যায, রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) উপজেলার পাটওয়ারীর দোকান এলাকায় ভোলা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-যুগ্ম সম্পাদক ও তজুমদ্দিন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক মোঃ শামছুদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মোঃ শিবির, নান্নু মিয়াসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলার রাখাল রাজা স্বাধীনতার মহান ঘোষক বহুদলীয় গণতন্ত্রে প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বিএনপির মুখপাত্র দৈনিক দিনকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক তারেক রহমানের ভাষণ প্রচার করেন। এ সময় সংস্কারপন্থী মেজর হাফিজ গ্রুপের বাচ্চু এসে জিয়াউর রহমানের ভাষণ প্রচারে বাঁধা দেয় এবং বলে ভোলা-৩ আসনে মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহাম্মেদের কথা ছাড়া আর কথা চলবেনা। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সংবাদ পেয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে দৈনিক দিনকালের তজুমদ্দিন উপজেলা প্রতিনিধি ও তজুমদ্দিন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন লিটন সেখানে উপস্থিত হলে মেজর হাফিজ গ্রুপের কর্মী বাচ্চু, ইকবালের নেতৃত্বে প্রথম দফা হামলা চালায়। এরপর চাঁদপুর ইউনিয়ন উত্তর বিএনপির সম্পাদক রবিউল ডুবাই, যুবদল কর্মি ইকবাল হোসেন, বাচ্চু, রিপন, কিবরিয়া, শাহীন, জুয়েল, রামিম, নিরবসহ ৪০/৫০ একটি সংর্ঘবদ্ধ গ্রুপ দ্বিতীয় দফা হামলা চালায়। হামলায় সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন লিটন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের দপ্তর সম্পাদক শামছুদ্দিন, তজুমদ্দিন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক নোমান, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা শিবির, নান্নুসহ ১০জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে শামছুদ্দিন ও নোমানকে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার সময় সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন লিটনের ভিভো ওয়াই-১৫ একটি এ্যান্ড্রোয়েট মোবাইল, দোকানের ক্যাশ নগদ ৭০ হাজার টাকা, পত্রিকার আইডি কার্ডসহ সাথে থাকা মালামাল নিয়ে যায়। এছাড়াও শামছুদ্দিনের সাথে থাকা ৫০ হাজার টাকা, নোমানের এ্যান্ড্রোয়েট মোবাইল, মানি ব্যাগসহ ৫হাজার টাকা, শিবিরের ১২হাজার ৫শত টাক নিয়ে যায়। এ সময় শিবিরের কীটনাশকের দোকানে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায় হামলাকারীরা। এঘটনায় দলীয় নেতাকর্মিরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের দপ্তর সম্পাদক মোঃ শামছুদ্দিন জানান, আমরা ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে পাটওয়ারীর দোকানে জিয়াউর রহমানের ভাষণ প্রচার করছি। হঠাৎ মেজর হাফিজ গ্রুপের কর্মি বাচ্চু এসে তাতে বাঁধা দেয় এবং বলে ভোলা-৩ আসন মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহাম্মেদ বীরবিক্রমের এখানে শুধু তার কথাই চলবে অন্যকারো নয়। এ সময় আমি বলি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক ভাষণ চলবে কিন্তু বলছে মেজর হাফিজের ভাষণ ছাড়া আর কারো কথা চলবেনা। এটি নিয়ে তার সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মেজর হাফিজ গ্রুপের ইকবাল ও রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে ৪০/৫০ লোক নিয়ে এসে হামলা চালায়। হামলায় সাংবাদিক, আমিসহ আমাদের ১০জন নেতাকর্মি আহত হয়।