1. admin@news.bholarnews.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৩০ অপরাহ্ন

বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জনবল-শয্যা সংকটে , ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

  • প্রকাশ কাল সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টারঃ

জনবল ও শয্যা সংকটে ভোলার বোরহানউদ্দিন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানো হলেও বাড়েনি জনবল। ৩১ জনের বিপরীতে চিকিৎসা দিচ্ছে ৩ জনে। প্রতিদিন গড়ে বহিবিভাগে আগত রোগির সংখ্যা ৪৫০ থেকে ৪৮০ । আন্তবিভাগে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪০। অথচ পুরাতন ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ফাটল জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ । তাই রোগিদের জন্য ব্যবহার হচ্ছে সম্প্রসারিত ১৯ শয্যার ভবন। ডাক্তারগন জীবনের ঝুঁকিনিয়ে প্রশাসনিক কাজ করছেন পুরাতন ভবনে। সব মিলিয়ে রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে ১ম শ্রেণির ৩০টি পদের মধ্যে ২২টি শূন্য। কাগজে কলমে ৬ জন থাকলে ও ২ জন ঢাকায় ট্রেনিংরত। ১ জন ডেপুটেশনে অন্যত্র কর্মরত। এখানে আছেন ৩ জন। ২য় শ্রেণীর ৩৬ টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ২২ জন, ৩য় শ্রেণীর ১৩৫ টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৯৩ জন, ৪র্থ শ্রেণীর ২২টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১৩ জন। জুনিয়র কনসালটেন্ট এ্যানেসথেসিয়া , সার্জারি, মেডিসিন, কার্ডিওলজি, অর্থোসার্জারী, শিশু, চক্ষু, ইএনটি, চর্ম ও যৌন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও এখানে কোন কনসালটেন্ট ডাক্তার নেই।যুগের পর যুগ পদগুলো শূণ্য থাকে। কখনও কেউ আসলে রোগি জানার আগে চলে যান অন্যত্র।

বোরহানউদ্দিন মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার পর আমরা আমরা ঢাকা কিংবা বরিশালের সাথে যোগাযোগ সংকটে বিছিন্ন হয়ে যাই।তাই গ্রামীণ এলাকায় জনগনের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে গাইনী,শিশু,মেডিসিনের জুনিয়র কনসালটেন্ট পদগুলোতে ডাক্তার দেওয়া প্রয়োজন।

আরো জানা যায়, ৯টি ইউনিয়ন ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভা নিয়ে এ উপজেলা।জনসংখ্যা প্রায় ৩লাখ। শাহবাজপুর গ্যাসফিল্ড সহ ৯টি কূপ ২২৫ মেগাওয়ার পাওয়ারপ্লান্ট।২০০৬ সালে জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালটিকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করতে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করেন । কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে মুখ উদ্যোগটি সফলতার মুখ দেখতে পায়নি। রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতালের বহি:বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, রোগি আর রোগি। আগতের মধ্যে ৯০ ভাগ মহিলা ও শিশু। কথা হয় বড় মানিকা ইউনিয়নের বাটামারা গ্রামের রুগির স্বজন ঝর্না,পক্ষিয়া ইউনিয়নের তাছলিমা,কুতুবার কুলসুম, হাসাননগরের রাসেদ, দেউলার হাফসা,সাচড়ার শিবপুরের আফসানা, কাচিয়ার হাসনাহেনার সাথে। অধিকাংশ জানান,বাচ্চার জ্বর ও ঠান্ডা জনিত সমস্যা। একজন মাত্র ডাক্তার।অনেকক্ষণ তাঁরা দাড়িয়ে আছেন।

মেডিকেল অফিসার ডা. প্রসেনজিৎ রায় জানান, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ রোগি আসে।ডিউটি ডাক্তার ২ জন। একজনে সারাদিন ডিউটি করে পরদিন আবার আউটডোরে ডিউটি করতে হয়। এখন আমাদের অসুস্থ্য হবার পালা।

আন্ত:বিভাগে দিয়ে দেখা যায়,সিট পরিপূর্ণ হয়ে মেঝোতে রোগি। কথা হয় পৌর সভার শাহে আলম, গংগাপুর ইউনিয়নের শাহনাজ, তজুমদ্দিন শিবপুর এলাকার সাজ্জাত এর সাথে। তাঁরা জানান, বেড নাই, করার কী? তাই ফ্লোরে চিৎিসা নিচ্ছি।

ওই বিভাগসূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ৪৮ থেকে ৫০ জন রোগি আসে। অথচ শয্যা আছে ১৯ টি। রোগীদের অভিযোগ, উপজেলার নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র প্রতিষ্ঠান। ডাক্তারের অভাবে আমরা সেবা বঞ্চিত। কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে গত ৬-৭ বছর আগে হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে যাবার পর পুণঃনির্মাণ না হওয়ায় ডাক্তার-নার্সরা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছেন।

নার্সিং সুপারভাইজার সালমা সুলতানা বলেন, ইতিমধ্যে কয়েকবার আমাদের বাসা চুঁরি হয়েছে।আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন ভোলা জেলার সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মোবাশ্বের উল্যাহ চৌধুরী, সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজের প্রভাষক এএইচএম মোস্তফা কামাল বলেন, বড় বড় শহর ভিক্তিক অতিরিক্ত নিয়োগ প্রথা বাতিল করে মফস্বল এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার দিতে হবে। ডেপুটেশন প্রথা বালিত করা উচিত।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিরুপম সরকার বলেন, ৩১ শয্যা বিশিষ্ট পুরাতন স্বাস্থ্য ভরনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। জনবল ও শয্যা সংকটে চিকিৎসা সেবা কিছুটা হলেও ব্যহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

ভোলা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মু মনিরুল ইসলাম বলেন, ভোলা জেলায় ৬৫ ভাগ চিকিৎসক ও ৫২ নার্স এর পদ শূন্য। চিকিৎসকের অভাবে পুরো জেলায় স্বাস্থ্য সেবা বিঘ্নিত হতে পারে।

 

শেয়ার করুন...

এধরণে আরও নিউজ